মুলতবি প্রস্তাব ঘিরে বিতর্ক
জ্বালানি ইস্যুতে সংসদে উত্তাপ
জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার আনা মূলতবি প্রস্তাব গ্রহণ না হওয়ায় জাতীয় সংসদে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টিকে দেশের অন্যতম বড় সংকট হিসেবে তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান, আর সরকার পক্ষ বলছে, সংসদ মূলতবি না করে বিধি ৬৮-এ সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমেই বিষয়টি নিষ্পত্তি করা যেতে পারে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য আনা বিরোধীদলীয় নেতার মূলতবি প্রস্তাব নিয়ে অধিবেশনে উভয় পক্ষের অবস্থান স্পষ্ট হলে সংসদে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
বক্তব্যের শুরুতেই ড. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের মানুষ প্রত্যাশা করছে এই সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে আলোচনা হবে। এটি এখন দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা। কিন্তু আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আলোচনা করতে পারছি না, এটা কি আমাদের জন্য দুর্ভাগ্য নয়? পত্রিকার রিপোর্ট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাইরে আমি নিজে বাস্তবে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেছি এবং দেখেছি সাধারণ মানুষের মধ্যে কতটা অসন্তোষ বিরাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, সংসদের প্রতিটি সেকেন্ড ব্যয় হচ্ছে জনগণের ট্যাক্সের টাকায়। এই প্রতিষ্ঠান জনগণের সম্পদ দিয়ে গড়া। আমরা এখানে নিজেদের প্রয়োজনে আসিনি, জনগণ তাদের প্রয়োজনে আমাদের পাঠিয়েছে। যদি জনগণের এই চরম দুর্ভোগের সময় তাদের কথাগুলো সংসদে বলতে না পারি, তবে এখানে থাকার কোনো সার্থকতা নেই।
সরকারের পরিসংখ্যান ও বক্তব্যের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, আমি বাস্তবের সাথে তার কোনো মিল খুঁজে পাইনি। একদিকে সংসদে বলা হচ্ছে তেলের কোনো সংকট নাই, অন্যদিকে সংসদের বাইরে তেলের জন্য মানুষ হাহাকার করছে। সংকট আছে বলেই আজ হাইকোর্টের মতো সংবেদনশীল জায়গায় ভার্চুয়ালি কাজ করতে হচ্ছে। সংকট না থাকলে এমন সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো?
ড. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা বুঝি এটি একটি গ্লোবাল মেটার এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সমস্যা হচ্ছে। আমরা বারবার বলছি আমরা সবাই মিলে এখানে কন্ট্রিবিউট করতে চাই। পরিস্থিতি সহজ করার জন্য আমাদের মতামত দিতে চাই। কিন্তু সব দায়িত্ব যদি শুধু সরকারি দলই পালন করে, তবে আমরা নাগরিক বা জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়বদ্ধতা পালন করব কীভাবে?
তিনি স্পিকারের উদ্দেশ্যে বলেন, এই সংকট এই মুহূর্তের গুরুতর সমস্যা। কারণ গোটা অর্থনীতির চাকাই নির্ভর করে পাওয়ার বা শক্তির ওপর, যার কাঁচামাল হলো এই জ্বালানি। তাই দায়সারাভাবে নিষ্পত্তি না করে, মাননীয় সংসদ নেতার উপস্থিতিতে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য সময় বরাদ্দ করা হোক।
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার আনা মূলতবি প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদীয় ইতিহাসে মূলতবি প্রস্তাব সাধারণত বিরোধী দল থেকে আনা হয়, ট্রেজারি বেঞ্চ বা সরকারের কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য। তবে আমাদের বর্তমান সংসদীয় সংস্কৃতিতে এই সেশনেই ইতিমধ্যে দুটি মূলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা ইতিহাসে অনন্য নজির। এই সেশনের মধ্যেই আরও একটি মূলতবি প্রস্তাব এলাও করলে সেটি ভবিষ্যৎ সেশনগুলোর জন্য একটি নেতিবাচক প্রথা তৈরি করবে।
তিনি বলেন, সংসদ মূলতবি না করে ৬৮ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা হতে পারে। মাননীয় স্পিকারের কাছে অনুরোধ থাকবে তিনি যেন বিরোধী দলীয় নেতাকে এই বিধিতে নোটিশ দেওয়ার সুযোগ দেন। মাননীয় সংসদ নেতার উপস্থিতিতে আমরা সেখানে গঠনমূলক আলোচনা করতে পারি।
এরপরই ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল, ৬৮ বিধিতে ১ ঘণ্টার জন্য আলোচনা করা যেতে পারে।
Parisreports / Parisreports
শাহজালাল বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে আবারো আগুন
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি বাংলাদেশের খলিলুর রহমান
ভোগান্তি নিয়ে ঢাকায় ফিরছে মানুষ
ফের দাম বাড়ল পেট্রোল-অকটেনের
ফেরিতে গাড়ি ওঠার আগে নামতে হবে সব যাত্রীকে
রামিসা হত্যায় ২ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট
ঈদে বাংলাদেশে কোরবানি হতে যাচ্ছে ট্রাম্প
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন আরও ১৭০ বাংলাদেশি
৮ বছরের শিশুকে গলাকেটে হত্যার প্রধান অভিযুক্ত গ্রেফতার
বাংলাদেশ থেকে ৪ খাতে কর্মী নিতে আগ্রহী কাতার
কারওয়ান বাজারে দৈনিক ২-৩ কোটি টাকা চাঁদাবাজি
সিএনজি ফিলিং স্টেশন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশনা