শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫

সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের পুশব্যাক করছে গ্রিস


আন্তর্জাতিক ডেস্ক photo আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১-৮-২০২৫ দুপুর ১০:৩৩

লিবিয়া থেকে সমুদ্র পেরিয়ে আসা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের চাপের মুখে পড়েছে গ্রিস। এমন পরিস্থিতিতে দেশটি সমুদ্রপথে আসা অভিবাসীদের পুশব্যাক করা শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছে প্রতিবেশী দেশ তুরস্ক।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, গ্রিক কোস্টগার্ড অভিবাসীদের নৌকা টেনে নিয়ে সেটি তুরস্কের জলসীমার দিকে ছেড়ে দিচ্ছে।

তুরস্ক বলছে, তারা ২২ জুলাই একটি সামরিক ড্রোনের মাধ্যমে ভিডিওটি ধারণ করেছে। সেখানে দেখা গেছে, গ্রিসের সামোস দ্বীপের পূর্ব উপকূল থেকে একটি রাবারের নৌকায় থাকা অনিয়মিত অভিবাসীদের তুলে নেওয়ার পর তা পশ্চিম ইয়ালানচি উপকূলে ঠেলে দেয়া হয়।

বিগত কয়েকদিনে এই ধরনের একাধিক ঘটনার কথা জানিয়েছে তুর্কি কোস্টগার্ড। তারা জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) আয়দিন প্রদেশের কুশাদাসি উপকূল এবং মারমারিস উপকূল থেকে পৃথক দুটি উদ্ধার অভিযানে মোট ৩৪ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করা হয়েছে।

ইউরোপীয় আইন অনুযায়ী এই ধরনের ‘পুশব্যাক’ সম্পূর্ণ অবৈধ। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, গ্রিস এই পদ্ধতিকে কার্যত ‘নিয়মে’ পরিণত করেছে। ফ্রন্টেক্স ইতোমধ্যে এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে।

২০২৫ সালের শুরু থেকে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুটে অভিবাসন প্রবণতা আবারও বেড়েছে। বিশেষ করে টিউনিশিয়া থেকে ইটালি যাওয়ার পথ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, লিবিয়া থেকে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপ ও গাভদোসের দিকে যাত্রা বেড়েছে।

ফ্রন্টেক্স-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুট হয়ে প্রায় ২০ হাজার অভিবাসী ইউরোপে এসেছেন। এর মধ্যে সাত হাজার ৩০০ জনের বেশি অভিবাসী কেবল ক্রিট ও গাভদোস দ্বীপে পৌঁছেছেন, যা ২০২৪ সালের তুলনায় অনেক বেশি। এদের বেশিরভাগই আফগান, মিশরীয় ও সুদানি নাগরিক। এদের অনেকেই লিবিয়ার তব্রুক বন্দর থেকে যাত্রা করেন, যা জেনারেল খলিফা হাফতারের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা। গ্রিসের অভিবাসনমন্ত্রী থানোস প্লেভরিস সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘গ্রিসে অনিয়মিত উপায়ে যে আসবে তাকে আটক করে ফেরত পাঠানো হবে।’

জুলাইয়ের শুরু থেকে গ্রিস উত্তর আফ্রিকা থেকে আগত অভিবাসীদের আশ্রয় আবেদন গ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। যা ইউরোপীয় আইনের একটি বিশেষ ধারা হলেও এর প্রয়োগ খুবই সীমিত। 

Parisreports / Parisreports