বরকত লাভে যে ৩ আমল বেশি বেশি করবেন
দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সফরে মুমিনের জন্য উত্তম আমল করা একান্ত অপরিহার্য। ফরজ বা আবশ্যকীয় কাজের পাশাপাশি উত্তম আমল মানুষকে আখিরাতে সফল হতে সহায়তা করবে। আর সফলতার জন্য বাহ্যিক আমলের সঙ্গে অভ্যন্তরীণ শুদ্ধিও অপরিহার্য।
পবিত্র কুরআনে মহান রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেছেন, ‘নিঃসন্দেহে সে সফলকাম হয়েছে, যে তাকে পরিশুদ্ধ করেছে এবং সে ব্যর্থ হয়েছে, যে তার নাফসকে কলুষিত করেছে। (সুরা আশ-শামস, আয়াত: ৯-১০)
তবে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে ইচ্ছাকৃত কিংবা শয়তানের ধোঁকায় পড়ে প্রায়সময়ই মানুষের দ্বারা এমন কিছু গুনাহ সংঘটিত হয়, যা খাঁটি ও কবুল হওয়া আমলগুলোও নষ্ট করে দেয়। এজন্য মুমিনের উচিত, আমল নষ্টকারী যেসব গুনাহ রয়েছে সেগুলো থেকে সবসময় সতর্ক থাকা।
মুআবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ান (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, আমল হলো পাত্রের মতো। পাত্রের তলা অক্ষত থাকলে তার উপরিভাগও অক্ষত থাকে এবং তার তলা নষ্ট হয়ে গেলে তার উপরিভাগও নষ্ট হয়ে যায়। (সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিস: ৪১৯৯)
আখিরাতে সফল হতে তাই বিভিন্ন সময়ে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) যেমন উম্মতদের নানা বিষয়ে আদেশ-নিষেধের কথা জানিয়েছেন, তেমনি বাতলে দিয়েছেন মহান রবের সন্তুষ্টি অর্জনের পথও। এরমধ্যে নিচে ৩টি আমলের কথা তুলে ধরা হলো, যার মাধ্যমে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সফরে মহান রবের বরকত লাভ করা যায়।
মহান আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করা
মহান রাব্বুল আলামিনের বরকত লাভের অন্যতম একটি উপায় হলো সর্বাবস্থায় তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল বা পূর্ণ আস্থা রাখা। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যদি আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করেন, তবে তোমাদের ওপর বিজয়ী কেউ নেই। আর যদি তিনি তোমাদের লাঞ্ছিত করেন, তবে কে এমন আছে যে তোমাদের এর পরে সাহায্য করবে? আর আল্লাহর ওপরই যেন মুমিনগণ তাওয়াক্কুল করে। (সুরা ইব্রাহিম, আয়াত: ১৬০)
বান্দা মহান আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করলে খোদ আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য উত্তরণের পথ তৈরি করে দেন এবং তিনি তাকে এমন উৎস থেকে রিজিক দেবেন, যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তার উদ্দেশ্য পূর্ণ করবেনই। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রত্যেক জিনিসের জন্য একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। (সুরা তালাক, আয়াত: ২-৩)
অন্যদিকে ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা যদি প্রকৃতভাবেই আল্লাহ তা’য়ালার ওপর নির্ভরশীল হতে, তাহলে পাখিদের যেভাবে রিজিক দেয়া হয়, সেভাবে তোমাদেরও রিজিক দেয়া হতো। এরা সকালবেলা খালি পেটে বের হয় এবং সন্ধ্যা বেলায় ভরা পেটে ফিরে আসে। (সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিস: ৪১৬৪; সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ২৩৪৪)
বেশি বেশি শুকরিয়া আদায় করা
বরকত লাভের আরেকটি আমল হলো মহান রবের বেশি বেশি শুকরিয়া আদায় করা। কারণ, বান্দা শুকরিয়া আদায় করলে মহান আল্লাহ নেয়ামত আরও বাড়িয়ে দেন। পবিত্র কুরআনে খোদ মহান রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেছেন, ‘অতএব, তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমি তোমাদের স্মরণ করব। আর আমার শোকর আদায় কর, আমার সঙ্গে কুফরি করো না। (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫২)
অপর আয়াতে মহান আল্লাহ তা’য়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘স্মরণ কর, যখন তোমাদের রব ঘোষণা দিলেন- ‘যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় কর, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের বাড়িয়ে দেবো, আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, নিশ্চয়ই আমার আযাব বড় কঠিন।’ (সুরা ইব্রাহিম, আয়াত: ৭)
আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর। তিনি ছাড়া কোনো সৃষ্টিকর্তা আছে কি, যে তোমাদের আকাশ ও জমিন থেকে রিজিক দান করে? তিনি ছাড়া সত্যিকারের কোনো ইলাহ নেই, তাহলে কীভাবে তোমরা বিপথগামী হচ্ছ? (সুরা ফাতির, আয়াত: ৩)
অন্যদিকে সর্বাবস্থায় বান্দা যখন শুকরিয়া আদায় করে তখন মহান রাব্বুল আলামিন তার জন্য সবকিছুই কল্যাণকর করে দেন। সুহায়ব (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুমিনের অবস্থা ভারি অদ্ভুত। তার সমস্ত কাজই তার জন্য কল্যাণকর। মুমিন ব্যতীত অন্য কারও জন্য এই কল্যাণ লাভের ব্যবস্থা নেই। তারা আনন্দ (সুখ-শান্তি) লাভ করলে শুকরিয়া জ্ঞাপন করে, তা তার জন্য কল্যাণকর হয়, আর দুঃখকষ্টে আক্রান্ত হলে ধৈর্যধারণ করে, এও তার জন্য কল্যাণকর হয়। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭২২৯)
পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত
বেশি বেশি কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমেও মহান রবের বরকত লাভ করা যায়। কারণ, পবিত্র কুরআন এমন একটি গ্রন্থ, যেটি নিজেই বরকতময়। মহান রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেছেন, ‘আর এটি একটি কিতাব, আমি তা নাজিল করেছি, বরকতময়। যা তাদের সামনে আছে তার সত্যায়নকারী। আর যাতে তুমি সতর্ক কর উম্মুল কুরা (মক্কা) ও তার আশপাশে যারা আছে তাদের। আর যারা আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে তারা যেন এ কিতাবের প্রতি ঈমান আনে এবং তারা তাদের সালাতের ওপর যত্নবান থাকে। (সুরা আন-আম, আয়াত: ৯২)
একই সুরার ১৫৫ নম্বর আয়াতে মহান রাব্বুল আলামিন ইরশাদ করেছেন, ‘আর এটি (এমন একটি) কিতাব, যা আমি নাজিল করেছি, বরকতময়। সুতরাং, তোমরা এর অনুসরণ কর এবং তাকওয়া অবলম্বন কর, যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও।’
হাদিসেও পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের গুরুত্বের কথা এসেছে। আবু মুসা আশআরী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, কুরআন পাঠকারী মুমিনের দৃষ্টান্ত নারাঙ্গির (সুগন্ধিযুক্ত রসালো ফল) ন্যায়, যার ঘ্রাণও উত্তম স্বাদও উত্তম। যে মুমিন কুরআন পাঠ করে না, তার দৃষ্টান্ত খেজুরের ন্যায়, যার কোনো ঘ্রাণ নেই, তবে এর স্বাদ আছে। আর যে মুনাফিক কুরআন পাঠ করে, তার দৃষ্টান্ত রায়হানার (সুগন্ধি) ন্যায়, যার ঘ্রাণ আছে তবে স্বাদ ভেজা, আর যে মুনাফিক কুরআন পাঠ করে না তার দৃষ্টান্ত হানযালা (তিক্ত স্বাদের ফল) ফলের ন্যায়, যার সুঘ্রাণও নেই, স্বাদও তিতা। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫০৩৩)
Parisreports / Parisreports
বরকত লাভে যে ৩ আমল বেশি বেশি করবেন
আলমারিতে রাখা শীতের পোশাক থেকে দুর্গন্ধ দূর করার উপায়
চুলের যত্নে তিসি ব্যবহার করবেন যেভাবে
ল্যাটিনা মেকআপ আসলে কী?
যে ফলের সঙ্গে রাখলে কলা দ্রুত পচে যায়
চিনি ছাড়ার সহজ ৫ উপায়
মুড সুইং ঠিক করতে যা খাবেন
শীতে কালো পোশাক কেন আরামদায়ক?
শীতে চুলের উপকারে ড্রাই শ্যাম্পু
খেজুর গুড়ের ৫ উপকারিতা
শীতে পা ফাটা দূর করার ঘরোয়া উপায়
শীতের বাহারি জ্যাকেট