বুধবার, ২০ মে, ২০২৬

৮ বছরের শিশুকে গলাকেটে হত্যার প্রধান অভিযুক্ত গ্রেফতার


নিজস্ব প্রতিবেদক photo নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৯-৫-২০২৬ রাত ১০:২০

রাজধানীর মিরপুরে আট বছরের এক শিশুকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছেন ডিএমপির মিরপুর জোনের ডিসি মোস্তাক সরকার। এর আগে সকালে পল্লবী থানাধীন একটি বাসা থেকে রামিসা আক্তার নামের শিশুটির গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে পপুলার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী ছিল।

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ স্বপ্না নামে এক নারীকে আটক করে। কিন্তু বাসার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ায় তার স্বামী প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এরপর থেকে তার সন্ধ্যানে অভিযানে নামে ডিএমপি। অবশেষে সন্ধ্যার দিকে তাকে গ্রেফতার করে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রী দুজনই গ্রেফতার হলেন।

নিহত শিশুর পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকাল সাড়ে দশটার দিকে স্কুলে পাঠানোর জন্য রামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। বাসায় না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করেন ভবনে। এক পর্যায়ে তৃতীয় তলায় রামিসাদের বাসার উল্টো দিকের ফ্ল্যাটের দরজার সামনে, শিশুটির ব্যবহৃত স্যান্ডেল পাওয়া যায়। ভবনের অন্যান্য বাসিন্দাদের নিয়ে ওই ফ্ল্যাটের দরজায় খুলতে বলা হলেও, সাড়া আসেনি ভেতর থেকে। পরে, দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ফ্ল্যাটের সোহেল রানার রুমে, খাটের নিচে পাওয়া যায় শিশু রামিসার মাথা-বিহীন মরদেহ।

প্রতিবেশী এক নারী সময় সংবাদকে বলেন, শুনলাম সাত বছরের বাচ্চাকে নির্যাতন করে মেরে ফেলা হয়েছে। স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, ছেলেটার সম্ভবত কোনো অসৎ উদ্দেশ্য ছিলো। টাকা-পয়সা না, অন্যকিছু। তার স্ত্রীকে ধরেছে। কিন্তু সে নিজে গ্রিল কেটে পালায় গেছে।

ফ্ল্যাটটিতে তখন একাই ছিলেন হত্যায় সন্দেহভাজন সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না। পেশায় রিকশা মেকানিক সোহেল জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেছে। ৯৯৯-এ যোগাযোগের পর ঘটনাস্থলে আসেন পল্লবী থানা পুলিশ এবং মিরপুর জোনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাদের সঙ্গে ছিলেন অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা সংস্থার সদস্যরাও। পরে, ফ্ল্যাটটির একটি বাথরুম থেকে নিহত রামিসার খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করা হয়।
 
সকালে ঘটনাস্থলে এসে ডিএমপির মিরপুর জোনের ডিসি মোস্তাক সরকার বলেছিলেন, অভিযুক্ত সোহেল রানার বয়স ৩০/৩২ বছর। সে একজন রিকশা মেকানিক। আসামি মোটামুটি আইডেন্টিফায়েড। প্রাথমিকভাবে আমাদের মনে হচ্ছে সেই (হত্যা) করেছে।

শিশুটিকে হত্যার আগে নির্যাতন করা হয়েছিলো কিনা, সেটিও তদন্তের বিষয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Parisreports / Parisreports