নিয়ন্ত্রণহীন ইজিবাইক: খুলনায় সীমাহীন যানজট
খুলনায় ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় শহরে প্রতিনিয়ত দেখা দিচ্ছে যানজট। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এসব ইজিবাইক শহরের যত্রতত্র ইচ্ছেমতো থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করায় সড়কে বাড়ছে বিশৃঙ্খলা। নিয়ন্ত্রণহীন চলাচলের কারণে ঘটছে দুর্ঘটনাও। তিন চাকার এসব যানবাহনের হঠাৎ ব্রেক ও বেপরোয়া ওভারটেকিং পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
নগরবাসী বলছেন, অনিয়ন্ত্রিত ও অপরিকল্পিতভাবে চলাচল করা ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক সড়কে যানজট, বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তাছাড়া জ্বালানি সংকটের এ সময়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি করছে। নাগরিক নেতারা সড়কে এসব যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য ট্রাফিক বিভাগ ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছেন।
রোববার (১৬ আগস্ট) ব্যাংক কর্মকর্তা নিশাত সুলতানা বলেন, মোহাম্মদনগর-বিশ্বরোড এরিয়ায় আমার বাড়ি হওয়ার কারণে প্রতিদিন আমাকে গল্লামারীর নির্মাণাধীন সেতু-সংলগ্ন রাস্তার জ্যাম ঠেলে অফিসে পৌঁছাতে হয়। এই সড়কে মোহাম্মদনগর থেকে বের হওয়ার মুখে রাস্তার অবস্থা খুব নাজুক। এই রাস্তা বেশ এবড়োখেবড়ো, যানবাহনগুলো এই পথ দিয়ে দুলতে দুলতে যায়, যা শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ ও গর্ভবতী মহিলাদের জন্য আশঙ্কাজনক।
তিনি আরও বলেন, এই রাস্তায় সবসময়ই যানজট লেগে থাকে। এখান থেকে আবার চালনাগামী বাসগুলো চলাচল করে, যা সবার জন্যই বিপজ্জনক। গল্লামারীর নির্মাণাধীন সেতু সংলগ্ন রাস্তার ভয়াবহ যানজট প্রতিদিন অফিস পৌঁছানোতে অতিরিক্ত সময় নেয়।
মহানগরের সোনাডাঙ্গা এলাকার সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ইজিবাইকের যন্ত্রণায় রাস্তায় প্রাইভেটকার নিয়ে বের হওয়া খুবই কষ্টকর। অধিকাংশ ইজিবাইক চালক ঠিকমতো গাড়ি চালাতে পারে না। প্রাইভেটকারে লাগিয়ে দিয়ে বলে গরিব মানুষ মাফ করে দেন।
বাইরের ইজিবাইকের প্রবেশ বন্ধ করা গেলে সড়কে দুর্ঘটনা ও যানজট অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব বলে মনে করেন এই ব্যবসায়ী।
খুলনা সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা গেছে, মহানগরে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের জন্য কেসিসি থেকে প্রায় ১০ হাজার ইজিবাইককে চলাচলের অনুমতি দেওয়া আছে। এছাড়া ১৭ হাজার রিকশার লাইসেন্স দেওয়া হলেও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রিকশার লাইসেন্স নবায়ন হয়েছে মাত্র ৬৮০টি। আদালতে মামলা চলমান থাকায় রিকশার লাইসেন্স নবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। অনুমোদনের বাইরে অধিকাংশ ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশা বাইরে থেকে শহরে প্রবেশ করে।
কেসিসি সূত্র আরও জানায়, বাস্তবে সড়কে ২০ থেকে ৩০ হাজার ইজিবাইক চলাচল করছে। কোনো কোনো হিসাবে অর্ধলাখের কাছাকাছি ইজিবাইক সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এর বড় একটি অংশই লাইসেন্সবিহীন বা ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে চলছে।
খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, দেশের তৃতীয় বৃহৎ মহানগর খুলনায় কোনো গণপরিবহন ব্যবস্থা নেই। ফলে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে ইজিবাইকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এসব ইজিবাইক সড়কে কোনো নিয়ম মেনে চলে না। তার ওপর যে পরিমাণ লাইসেন্স দেওয়া রয়েছে তার থেকে প্রায় ৪-৫ গুণ বেশি ইজিবাইক সড়কে চলছে। অবাধে সড়কে চললেও এসব বন্ধে সংশ্লিষ্ট কেউ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে।
গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করার পরেও চাকরি না পাওয়া নিরালা এলাকার এজাজ আলী নামের এক ইজিবাইক চালক বলেন, বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিদিন হাজারো ইজিবাইক শহরে প্রবেশ করে, যাদের লাইসেন্স নেই। আগে যেখানে প্রতিদিন এক থেকে দেড় হাজার টাকা রোজগার হতো, এখন সেখানে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় হয়।
ইজাজ বলেন, লাইসেন্সবিহীন কোনো গাড়ি যেন শহরের বাইরে থেকে প্রবেশ না করে। তাহলে একদিকে যানজট কমবে অন্যদিকে আমাদের আয়ও বাড়বে।
লাইসেন্সবিহীন ইজিবাইকের চালক আব্দুল্লাহ বলেন, ট্রাফিক পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে চালাতে হয়। মাঝেমধ্যে ধরাও খাই। তখন গাড়ি আটক রাখে ট্রাফিক পুলিশ। ৫০০ টাকার স্লিপ ধরিয়ে দেয়, টাকা দিলে গাড়ি ছেড়ে দেয়।
Parisreports / Parisreports
নিয়ন্ত্রণহীন ইজিবাইক: খুলনায় সীমাহীন যানজট
টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীতে জলাবদ্ধতা
ফের বন্ধ বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট
বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি আটক, ভারতীয়কে ধরে আনলেন স্থানীয়রা
কক্সবাজার সৈকতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু
বগুড়ায় ৭ শ্রমিকের মৃত্যু
ব্রহ্মপুত্রের ডান তীররক্ষা বাঁধে ধস, আতঙ্কে নদপাড়ের মানুষ
উখিয়ায় পাহাড়ধসের ঘটনায় নিহত বেড়ে ৮
কক্সবাজারে পাহাড় ধসে ৮ রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশির মৃত্যু
জমি নিয়ে সন্তানদের বিরোধ, বাড়ির উঠানে বাবাকে দাফন
২৬ দিন পর দেশে ফিরলো দুই প্রবাসীর মরদেহ
পরিত্যক্ত টয়লেটে বিষাক্ত গ্যাসে বাবা-ছেলেসহ চারজনের মৃত্যু